বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম কমেনি। এমনই এক তথ্য দাবি করছে ভারতের একটি অনলাইন পত্রিকা প্রথম কলকাতা। তাদের এক ভিডিও প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেলের দাম কমানোর ক্ষেত্রে ভারত সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিল। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার মধ্যবিত্তের জন্য কি ভাবছে?
আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে ভোজ্য তেলের দাম। ইন্দোনেশিয়া ভোজ্য তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় বিশ্বের সব দেশ খুশি হয়েছে। চিন্তা করা হয়েছিল ভারত বাংলাদেশে ও কমবে ভোজ্য তেলের দাম। ভোক্তাদের আর বেশি দাম দিয়ে কিনতে হবে না তেল। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া ভোজ্য তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার ১৫ দিন পরেও বাংলাদেশে তেলের দামের পরিবর্তন দেখা যায় নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন পাম তেল। আমদানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমলেও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয়ে লাগাম টানতে পারছে না সরকার। তাই কমছে না তেলের দাম।
দেশের বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১৮০ টাকা, আর বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর পাম তেলের দাম লিটার প্রতি ১৭২ টাকা। ইন্দোনেশিয়া তেল রপ্তানি বন্ধ করবে শুনেই সব দেশের মতোই বাংলাদেশ ও বাড়িয়ে দেয় তেলের দাম। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও চট করে কমছে না তেলের দাম। এতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্তরা। প্রশ্ন উঠছে, তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে?
ইন্দোনেশিয়া নিষেধাজ্ঞা দেয়ার একদিন আগেও, ১ কোটি ৩১ লাখ লিটার পাম তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্য রওনা হয়। তারপরও তেলের দাম বাড়ছে বাংলাদেশে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর বিশ্বের সকল দেশে তেলের দাম কমা শুরু করেছে। কিন্তু তেলের দাম কমানোর ক্ষেত্রে ভারত সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। সয়াবিন সূর্যমুখী তেল আমদানিতে শুল্ক বাতিল করা হয়েছে। কৃষি ও বুনিয়াদি শুল্কও বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে ভারত। এই কারণে ভারত সরকারের বছরে ১ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব আয় কমবে। পাম অয়েল মিশন প্রচলন চালু করতে চলেছে ভারত। এর ফলে ভারতের তেলের আমদানি কমবে। বর্তমানে ভারতের অর্ধেকের বেশি তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
গত ২৮ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়া তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ইন্দোনেশিয়া দেশের অভ্যন্তরে তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সব দেশেই বাড়তে থাকে তেলের দাম৷ কিন্তু দাম কমানোর পর সারাবিশ্বের মধ্যে তেলের দাম কমিয়ে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। এখন বিশ্ব নেতারা তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের দিকে।













