রবিবার
৩০শে নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পাকুন্দিয়ায় বিএনপি-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলায় বিএনপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশের বাঁধা। আজ শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পাকুন্দিয়া উপজেলার পাট মহলে তেল, গ্যাস, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি ও ভোলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল।

বিক্ষোভ কর্মসূচি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে জড়ো হতে থাকলে পুলিশ বাঁধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সাথে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট চালায়। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসময় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। এই জন্য সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা পাকুন্দিয়া সদরে উপস্থিত হতে শুরু করে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে উপজেলাতে প্রবেশ করতে গেলে পুলিশ বাঁধা প্রদান করে। বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল এগিয়ে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

খন্দকার আল আশরাফ মামুন

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন বলেন, তেল, গ্যাস ও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ করার কথা ছিল। আমাদের প্রস্তুতিও বেশ ভালো ছিল। সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে পাকুন্দিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকলে পুলিশ প্রশাসনের লোকজন আমাদের উপর আক্রমণ শুরু করে। পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।

পাকুন্দিয়ার কর্মসূচিকে ঘিরে গত শুক্রবার রাত থেকেই বিএনপির বিভিন্ন নেতাদের বাড়িতে পুলিশ অভিযান শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির নেতারা। গত শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে চরফরাদি ইউনিয়নের সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ভিপি কামাল উদ্দিনের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায়। এসময় উনাকে বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। এছাড়াও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো: তৌফিকুল ইসলাম, মো: আতিকুর রহমান মাসুদ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান খান সুমন সহ আরও অনেকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়।

বিএনপির নেতারা জানায়, তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক ও সাবেক এমপি এড. সোহরাব উদ্দিন একই স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়। তাদের নির্দেশেই পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলাতে প্রবেশের বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান শুরু করে। পাকুন্দিয়া-মঠখোলা রোডের হাঁপানিয়া মোড়, পাকুন্দিয়া-মির্জাপুর রোডের গরুর হাঁট, চরফরাদি রোড, পাকুন্দিয়া-জাঙ্গালিয়া মোড় ও বড়বাড়ী রোডে অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিক্ষোভ মিছিলকে প্রতিহত করতে উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে। এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট চালায়। এতে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে পাকুন্দিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো: তৌফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

মো: তৌফিকুল ইসলাম

পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের নেতা সাব্বির হোসেন শ্রাবণের শরীরে অসংখ্য রাবার বুলেট লাগে। শ্রাবণের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে কিশোরগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সাব্বির হোসেন শ্রাবণ

এছাড়াও আহত নেতাকর্মীরা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ মানবাধিকার সম্পাদক আজিজুল হাকিম মীর, সুমন, পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য এহছানুল হক ছানু, মো: সাকিব, রানা, অন্তর, ইমন, সৌরভ, আবুল কালাম, অপু, তাজউদ্দিন, আরিফ, সালাউদ্দিন, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আনোয়ার হোসেন বাবলু, সাজ্জাত, হানিফ, মেরাজ, তুহিন, চরফরাদি ইউনিয়নের ফারুক, রাসেল, সামাদ, বুলবুল, ওয়াহিদুজ্জামান সজিব, আরিফ, সেলিম সহ আরও ২০০ শতাধিক নেতাকর্মী।

আজিজুল হাকিম মীর
এহছানুল হক ছানু

পোস্টটি শেয়ার করুন...

রিলেটেড পোস্ট

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

অন্যান্য পোস্ট