সোমবার
১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কুবি ছাত্রদলের মানববন্ধন

দেশব্যাপী নারীদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা, নিপীড়ন, ধর্ষণ, অনলাইনে হেনস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল ১০ই মার্চ সোমবার মানববন্ধন করেছে। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সকল নির্যাতিত নারীর সুবিচার নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

কুবি ছাত্রদলের ৪নং যুগ্ম আহবায়ক আতিকুর রহমান বলেন, “আজকে আমরা এখানে মাগুরার ৮ বছর বয়সী ছোট্ট আছিয়ার ধর্ষণের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছি। যে বয়সে একটি শিশু খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, আজকে সেই শিশুটি ঢাকা সিএমএইচে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। কুমিল্লার কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণে তিন সন্তানের জননীকে গনধর্ষন করা হয়েছে, কলেজছাত্রী মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এরকম হাজার হাজার ধর্ষনের ঘটনা রয়েছে যার একটির ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দেখতে পায়নি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার বিচার ব্যবস্থাকে এমনভাবে ধ্বংস করেছে যে, গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণের কোনো কার্যকর বিচার হয় নাই।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের কাছে বলতে চাই, অতিদ্রুত আছিয়া সহ প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে শাস্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হোক। আজকের পর যেনো আবার কোনো মা বোনের ধর্ষনের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করতে না হয়।”

যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, “পতিত স্বৈরাচার হাসিনার আমলে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে ৪ সন্তানের জননী গৃহবধূকে নোয়াখালীতে ধর্ষণ করে পতিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। সেই একইভাবে কুমিল্লার তনু ও মুনিয়া, ফেনীর নুসরাত এবং সর্বশেষ মাগুরার ৮ বছরের শিশু আছিয়া। পতিত স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার দোসররা আমাদের চারপাশে রয়ে গেছে। তাদের দ্বারাই এইসব ধর্ষণ ও সকল অন্যায় কাজ হচ্ছে বলে মনে করি। ধর্ষণের তদন্তের নামে দিনকে দিন অপেক্ষা করতে করতে অপরাধী জামিনে বের হয়ে যায়। তখন ধর্ষিতারা তাদের ন্যায় বিচার পায়না। আমরা চাই এই ন্যক্করজনক অপরাধের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল গঠন করে ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা যেন করা হয়। এই ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সদিচ্ছা থাকলেই সবকিছু সম্ভব।”

ছাত্রদলের সদস্য মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারকে হটিয়ে জুলাই ২৪ এর স্পিরিটকে ধারণ করে আমরা যেই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। বর্তমানে সামাজিক বিশৃঙ্খলায় আমাদের সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গিয়েছে। দেশে প্রতিনিয়ত নারীরা বিভিন্নভাবে প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে, একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমি তীব্র নিন্দা জানাই বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় আমি ধিক্কার জানাই উপদেষ্টা  মন্ডলীর কর্তব্যহীনতায়। আজ ৮ বছরের ছোট বাচ্ছা আছিয়া ধর্ষণের বিচারের দাবিতে আমরা জড়ো হয়েছে। সুস্পষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিচার কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।আছিয়া ছাড়াও প্রতিদিন দেশের কোন না কোন প্রান্তে ধর্ষণের খবর শোনা যাচ্ছে, কেন শোনা যাচ্ছে?  বিচার কার্যে বিলম্ব হওয়ার কারণে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। আর এর দায় সম্পূর্ণরূপে বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকারের। আজ আমি সুস্পষ্টভাবে সরকারকে বলে দিতেচাই অতি দ্রুত আইন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যর্থতার দায় নিয়ে এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। আমরা আমাদের মত করে পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচিত করব এবং যেই সুখী সমৃদ্ধির বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি তা বিনির্মান করব।”

পোস্টটি শেয়ার করুন...

রিলেটেড পোস্ট

ফেসবুক পেজে লাইক দিন

অন্যান্য পোস্ট