শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক ক্রান্তিকালে দেশের শাসনক্ষমতা হাতে নেন। বলা যায়, গভীর সংকটকালে জিয়াউর রহমানের ওপর শাসনক্ষমতা অর্পিত হয়। তখন দেশে কোনো সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল ছিল না। ছিল না সুসংহত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তখন কোনো রাজনৈতিক দল দেশে অক্ষত ছিল না। আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের প্রয়োজনীয়তা খুব করে অনুভূত হয়। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার নতুন এক রূপকার। নতুন রাজনীতি বলছি এই কারণে যে, এর আগে কোনো জাতীয় নেতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এমনভাবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। প্রথমে রয়েছে তার গ্রাম উন্নয়নের রাজনীতি এবং সর্বশেষ সৃজনশীল রাজনীতি। মাঝে রয়েছে তার জনকল্যাণের রাজনীতি, উৎপাদনমুখী রাজনীতি এবং সমন্বয় ও ভারসাম্যের রাজনীতি।
আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আরও সামনে চলে আসেন। বর্তমান সরকার গ্রাম উন্নয়নের যে কথা বলছে, গ্রামকে নিয়ে যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা ভাবছে, এই ভাবনাটা সর্বপ্রথম জিয়াউর রহমান ভেবেছিলেন এবং সেভাবেই তিনি কর্মসূচি প্রণয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। দেশের মানুষ তার এসব কর্মসূচির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছে এবং এ জন্যই নতুন রাজনৈতিক রূপকার হিসেবে তিনি অনন্য স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি খুব গভীরভাবেই এই সত্যটাও উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সমাজের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে, মানুষের সচেতনতাবোধ আরও পুষ্ট করে তাদের রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপে যত বেশি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে, ততই দেশের, সমাজের উন্নয়ন-অগ্রগতির পথ মসৃণ করা সহজ হবে।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খালেদা জিয়া নিপীড়ন সহ্য করেছেন। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান যখন রণাঙ্গনে, তখন খালেদা জিয়াকে মাশুল গুনতে হয়েছে। দলের নেতৃত্ব ভার যখন খালেদা জিয়ার ওপর অর্পিত হলো, তখন থেকেই তিনি আপসহীন রাজনীতির কারণে অন্যরকমভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। তিনি প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন এবং সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির নতুন ধারা চালু করেন। সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করে খালেদা জিয়া আরেক ধরনের নতুন রাজনীতি উপহার দেন। জিয়াউর রহমান ভালোভাবেই জানতেন, সমাজ জীবনের যেসব উপাদানের জন্য রাজনীতি অপরিহার্য, বাংলাদেশের সমাজে তা অনেকটা নিত্য, চিরস্থায়ী। সীমিত সম্পদ, বিরাট জনসমষ্টির মৌলিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে ভিন্নমত এবং স্বার্থের সংঘাত শুধু এই সমাজেই নয়, বিশ্বের সর্বত্রই কমবেশি বিদ্যমান। তাই রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপে বিশ্বব্যাপীই বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার নামে দেশে যা চলছে, তাকে গণতন্ত্রের সংজ্ঞাসূত্র মোতাবেক ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ বলার অবকাশ কতটা আছে- এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে খুব সঙ্গত কারণেই। বৃহৎ পরিসরে আলোচনা না করেও যদি গত দুটি জাতীয় নির্বাচন ও এর পূর্বাপর স্থানীয় সরকার কাঠামোর বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনের দিকে আমরা দৃষ্টি দিই, তাহলে যে চিত্র ভেসে ওঠে তা এক কথায় ভয়াবহ। গণতন্ত্রে যেগুলো অপরিহার্য এর মধ্যে অন্যতম রাজনৈতিক অধিকার আজ একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে বলা যায়। নিপীড়ন-নির্যাতন-মামলা-হামলা-মতপ্রকাশে বাধা ইত্যাদি কারণে জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া রাজনৈতিক দল বিএনপির ওপর দিয়ে ঝড়ঝাপটা ইতিমধ্যে কম বয়ে যায়নি এবং এখনও তা চলছেই। দলটিকে অস্তিত্বহীন করে দেওয়ার নানারকম চক্রান্ত চলছে। এমতাবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের এখন প্রধান কাজ হলো জিয়াউর রহমানের নীতি-আদর্শ ধারণ করে সবরকম ভেদাভেদ ভুলে নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে রাজনীতির মাঠে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই মাঠে নামতে হবে এবং জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।
দলটির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন কারান্তরীণ। তিনি সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না- এ কথাটা যে শুধু পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতাকর্মীরাই বলে আসছেন, তা তো নয়। গণমাধ্যমেও এই সংবাদ প্রচারিত-প্রকাশিত হয়ে আসছে। তার পরিবার, দল কিংবা বিএনপির বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার নেতারা খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথা বলেছেন বলে জানি না। তারা সবাই আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইছেন। সবকিছু বিবেচনায় তার মুক্তি পাওয়ার পথটি যাতে দ্রুত সুগম হয় এ জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের গঠনমূলক, পরিকল্পিত রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। দলের অপর শীর্ষ নেতা তারেক রহমানও প্রবাসে। এমতাবস্থায় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং দলকে পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে জিয়াউর রহমানের আদর্শ-নীতি অনুসরণ করে সামনের দিকে এগোতে হবে। জিয়াউর রহমান মানুষের কাছে তার নীতি-আদর্শ-লক্ষ্য নিয়ে পৌঁছতে পেরেছিলেন বলেই বিএনপির মতো দল তিনি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আজকের বাস্তবতায় কর্মপরিকল্পনাও নিতে হবে সেই নিরিখেই। বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির নেতাদের জনগণের আরও কাছে যেতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দলীয় রাজনীতির মোড় ঘোরাতে নতুন করে উদ্যোগ নিতে হবে। হতাশার কোনো স্থান রাজনীতিতে যেন না হয়, সে লক্ষ্যেই দলের নীতিনির্ধারকদের কাজ করতে হবে।
বিএনপিকে যে বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে- এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ জনগণের কাছে গিয়ে এই আস্থার বোধ পুষ্ট করা যে, বিএনপির পক্ষেই সম্ভব গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এই দলটিতে বিভিন্ন ধারার সফল ও দক্ষ রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, যারা অতীতে ভিন্ন আদর্শের রাজনীতি করতেন। জিয়াউর রহমানের নীতি-আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, উজ্জীবিত হয়ে তারা বিএনপির পতাকাতলে জড়ো হয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন এবং আজও করছেন। কাজেই বিশ্বাস করি, পোড়-খাওয়া এই রাজনীতিকরাই জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে অধিকারের সমতল ভূমি নিশ্চিত করাসহ গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনে সক্ষম। প্রয়োজনে সমঝোতার পথে হেঁটে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফল করার জন্য এগোতে হবে। দলে শৃঙ্খলার ভিত মজবুত করতে হবে। দলীয় ফোরামে ভিন্ন মত তুলে ধরতে আপত্তি নেই; কিন্তু দলীয় ফোরামের বাইরে কথা বলতে সতর্ক থাকতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে দলীয় মুখপাত্রই হবেন মুখ্য। বহু মত থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু পথ হবে একটাই। এই পথটা বহু মতের ভিত্তিতেই নির্মাণ করতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রেই এগোতে হবে দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে। বিএনপি তো কোনো ভুঁইফোঁড় রাজনৈতিক দল নয় যে, নিপীড়ন-নির্যাতন-মামলা-হামলা চালিয়ে দলটিকে বিলীন করে দেওয়া যাবে। জনগণই শক্তি- এই বোধে আরও পুষ্ট হয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে সব বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলার মতো দূরদর্শী ও গোছালো কর্মপরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের বিকল্প নেই।
বিশ্বব্যাপীই গণতন্ত্রের দুর্দিন যাচ্ছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ যাচ্ছে কোথায়- এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। প্রজাতন্ত্র হিসেবে ৫০ না পেরোলেও এই জনপদ সাড়ে ৪ হাজার বছরের পুরনো সমাজ। এর মধ্যে একাত্তরই আমাদের বড় অর্জন। সাধারণ মানুষের তখনকার ও এখনকার মধ্যকার চাওয়ার মিলটাও একই। সেটা হলো- স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা, আইনের শাসনে প্রত্যেকে থাকা, ন্যায়বিচারের পথটি সুগম করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব ক্ষেত্রেই আমাদের সংকট প্রকট। আমাদের রাজনীতি পশ্চাৎমুখী। একটা দলই থাকবে, এমন একটি জায়গায় সম্ভবত আমরা চলে গেছি। হয়তো চীনের উদাহরণ টানা হবে। কিন্তু জনগণকে দূরে ঠেলে নয়, বরং তাদের সঙ্গে নিয়েই চীন প্রভূত উন্নতি করেছে। ওখানে এক ধরনের গণতন্ত্র আছে। মাও সে তুং বলেছিলেন, ‘যারা উন্নয়ন ঘটাবে, তাদেরকে অগ্রসর করে নিতে হবে।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্রহীনতার মূল কারণ কয়েকটি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো রাষ্ট্র থেকে সরকার এবং রাষ্ট্র ও সরকার থেকে দল আলাদা থাকবে। এখানে তা নেই। সত্তরের নির্বাচনের আগে জনগণকে উজ্জীবিত করতে সেভাবে বিরোধী দলকে কিছু করতে হয়নি। কারণ সর্বস্তরের মানুষ নানারকম নিপীড়নে তখন পর্যুদস্ত ছিল। তাই তারা অন্তর্গতভাবে ফেটে পড়েছিল। সময় পাল্টেছে কিন্তু পরিস্থিতি খুব একটা পাল্টায়নি। তবে সময়ের ব্যবধানে চিন্তাচেতনায় কিছুটা পার্থক্যের যেহেতু রেখা সৃষ্টি হয়েছে, তাই সামগ্রিক বিষয়টাকে সেভাবে আমলে রেখেই কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে।
বিএনপির সংসদে যোগদানের বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই মূল্যায়ন করি। এখন সংসদে ও সংসদের বাইরে সোচ্চার হতে হবে। বিএনপিকে আরও সংগঠিত হতে হবে। জিয়াউর রহমান একক পরিকল্পনা করে দল গড়েছিলেন, পরে সবাইকে নিয়ে দলের অবস্থান তৃণমূল পর্যন্ত সুসংহত করতে সক্ষম হন। আবারও বলি, আজ গ্রাম উন্নয়নের যেসব কর্মপরিকল্পনার কথা শুনি, এতে মনে হয় যেন জিয়াউর রহমানের নীতির প্রতিফলন। বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে এই বোধটুকু পুষ্ট করে চেতনার জায়গাটুকু উজ্জীবিত করতে হবে। আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব, যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেরকমভাবে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা যায়। জনসমাজ যতদিন থাকবে, সমাজে যতদিন বহুমুখী নীতির প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হবে, ততদিন রাজনীতিও এই সমাজকে ঘিরে টিকে থাকবে। রাজনীতিকে তাই শান্তিপূর্ণ, যুক্তিবাদী এবং প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য ক্ষীণদৃষ্টি নয়, দরকার দূরদৃষ্টি। জিয়াউর রহমান কথা বলেই ক্ষান্ত হননি। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করে, আরামকে হারাম করে, নগর জীবনের বিলাসী হাওয়া পরিত্যাগ করে, আরাম-কেদারায় বসে নেতৃত্বদানকারীদের দৃষ্টান্ত পরিহার করে দিনের পর দিন ছুটে গেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। বিএনপির আজকের নেতৃবৃন্দকে এই দৃষ্টান্তটা সামনে রেখে তার নতুন রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিকে যথার্থভাবে উপলব্ধি করতে হবে।
জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করে এবং গ্রামীণ সমস্যার সঙ্গে রাজনীতিকে সম্পৃক্ত করে, বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে রাজনীতির নতুন জাতীয় ভাবমূর্তি সৃষ্টি করেন। গ্রামীণ জনসাধারণের ক্ষমতায়নের পথ ঘেঁষেই রাজনীতি একদিকে যেমন পরিপূর্ণতা অর্জন করতে পারে, অন্যদিকে তেমনি তার সুষম বৃদ্ধিও সম্ভব। এই অনুধাবনই রাষ্ট্রপতি জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন গতিধারা সুনির্দিষ্ট করতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। উন্নয়ন সাহিত্যের সর্বত্রই বলা হয়েছে, যাদের জন্য উন্নয়ন তাদেরকেই সর্বপ্রথম উন্নত করতে হবে। আমাদের সমস্যা অনেক। কিন্তু বিপরীতে সম্ভাবনাও কম নয়। রাজনীতিকদের রাজনীতি হতে হবে সুনির্দিষ্ট ইস্যুভিত্তিক, জনস্বার্থ ও কল্যাণ-সংশ্নিষ্ট। সর্বোপরি দেশ ও সমাজের জন্য, যা কিছু হিতকর এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। এ কথাও মনে রাখা দরকার, যে কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের দাবি সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বিরাজ করলে কিংবা ক্রমেই তা আরও প্রকট হলে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকারীদের দাবি মেটাতে অক্ষম হলে অংশগ্রহণের সংকট দেখা দেয়। আজকের দিনে বিএনপির নীতিনির্ধারকসহ দলের নেতাকর্মীদের বাস্তবতা আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করে এর নিরিখেই কর্মসূচি প্রণয়ন করে রাজনৈতিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। দল গুছিয়ে, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করে মাঠে নামা চাই। জনগণ যাতে মাঠে এসে শরিক হয়, সে রকম কর্মকৌশল অবলম্বনের মধ্য দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফেরার পথ সৃষ্টি করতে হবে। সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে জিয়াউর রহমানের অন্তর্দৃষ্টির প্রখরতার যে পরিচয় মেলে, এসবই বিএনপির রাজনীতির জন্য বড় মূলধন।
সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী












